ইবনে বতুতা ছিলেন মুসলিম পর্যটক, চিন্তাবিদ এবং বিচারক। তিনি ১৩০৪ খ্রিস্টাব্দে মরক্কোয় অনুগ্রাহণ করেন। ১৩৩৩ খ্রিস্টাব্দে মুহম্মদ বিন তুঘলকের রাজত্বকালে ইবনে বক্তৃতা ভারতবর্ষে আগমন করেন। সুলতানের সাথে পরিচয় ঘটলে তিনি এই পরিব্রাজককে কাজীর পদে নিযুক্ত করেন। ইবনে বতুতা অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে ৮ বছর উক্ত পদে বহাল ছিলেন। ইবনে বতুতা ফখরউদ্দিন মুবারক শাহের রাজত্বকালে ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় আসেন। বাংলাদেশে আসার তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল সিলেটে গিয়ে হযরত শাহজালালের সঙ্গে সাক্ষাৎকরা। ইবনে বক্তৃতা প্রথম বিদেশি পর্যটক হিসাবে 'বাঙ্গালা' শব্দ ব্যবহার করেন। নিত্যনৈমিত্তিক দ্রব্যাদির প্রাচুর্য ও স্বল্পমূল্য আর মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী ইবনে বতুতাকে আকৃষ্ট করলেও এদেশের আবহাওয়া তাঁর পছন্দ হয়নি। ইবনে বক্তৃতার তার 'কিতাবুল রেহেলা' নামক গ্রন্থে বাংলাকে “দোযখপুর আয নিয়ামত বা 'আশীর্বাদপুষ্ট নরক' হিসাবে আখ্যায়িত করেন।
মধ্যযুগের বিশ্ববিখ্যাত মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা বাংলার ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তিত্ব। তাঁর বর্ণনার মাধ্যমেই আমরা চৌদ্দ শতকের বাংলার আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারি।
১. পরিচয় ও ভ্রমণ
পুরো নাম: শেখ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে বতুতা।
জন্ম: ১৩০৪ সালে মরক্কোর তানজিয়ার শহরে।
ভ্রমণবৃত্তান্ত: তাঁর বিশ্বভ্রমণের কাহিনী সংবলিত বিখ্যাত বইটির নাম 'রহেলা' (Kitab-ur-Rehla)। তিনি প্রায় ৩০ বছরে প্রায় ৭৫,০০০ মাইল পথ ভ্রমণ করেছিলেন।
২. বাংলায় আগমন (১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দ)
ইবনে বতুতা যখন বাংলায় আসেন, তখন দিল্লির সুলতান ছিলেন মুহাম্মদ বিন তুঘলক। কিন্তু বাংলা তখন ছিল স্বাধীন।
কার আমলে আসেন: তিনি স্বাধীন সুলতান ফখরুদ্দিন মোবারক শাহের শাসনামলে বাংলায় আসেন।
উদ্দেশ্য: মূলত সুফি সাধক হযরত শাহজালাল (র.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য তিনি সিলেটে এসেছিলেন।
ভ্রমণ পথ: তিনি চাটগাঁ (চট্টগ্রাম) বন্দর দিয়ে বাংলায় প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে সোনারগাঁও ও সিলেট ভ্রমণ করেন।
৩. বাংলার বর্ণনা: "নেয়ামতে ভরা দোজখ"
ইবনে বতুতা তাঁর বইয়ে বাংলাকে 'দোযখপুর-ই-পুর নেয়ামত' (একটি নেয়ামতে ভরপুর দোজখ) বলে অভিহিত করেছেন। এর কারণ ছিল:
নেয়ামত: এখানে প্রচুর ধনসম্পদ, সস্তা খাবার এবং শস্য ছিল।
দোজখ: এখানকার আবহাওয়া ছিল অত্যন্ত আর্দ্র ও গরম, যা তাঁর মতো বিদেশি পর্যটকের কাছে অস্বস্তিকর মনে হয়েছিল।
৪. দ্রব্যমূল্যের বিবরণ
তাঁর বর্ণনা থেকে আমরা তৎকালীন বাংলার সস্তা জীবনযাত্রার একটি চিত্র পাই:
১ দিরহামে ৮টি মুরগি পাওয়া যেত।
২ দিরহামে ১টি ভালো মানের দাস কেনা যেত।
১টি উট মাত্র ৩ দিরহামে পাওয়া যেত। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বিশ্বের আর কোথাও এত সস্তায় জীবনধারণের উপকরণ দেখেননি।
Quick Notes:
বিখ্যাত উক্তি: বাংলাকে 'নেয়ামতে ভরা দোজখ' কে বলেছেন? — ইবনে বতুতা।
ভ্রমণকাল: ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দ।
সিলেটে সাক্ষাৎ: তিনি সিলেটে কার সাথে দেখা করেন? — হযরত শাহজালাল (র.)।
প্রবেশ পথ: তিনি কোন বন্দর দিয়ে বাংলায় ঢোকেন? — চট্টগ্রাম।
বইয়ের নাম: কিতাবুর রেহেলা।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
Read more